Safe Drive Save Life in Bengali | সেভ ড্রাইভ সেভ লাইফ প্রতিবেদন রচনা


যথাযথভাবে পথ চলঃ জীবন বাঁচাও (Safe Drive: Save Life)

ভূমিকা :

কথায় আছে, ‘সাবধানের মার নেই’, কিংবা, ‘যে সয় সে রয়। অর্থাৎ বহুদিন জীবনপথ অতিক্রম করতে হলে পথ পরিক্রমাটাও সাবধানে ও যথাযথভাবে করা উচিত। পথ যে। সাবধানে চলে সেই পথের প্রান্তে পৌঁছতে পারে, রচিত হতে পারে পথের পাঁচালি।

কিন্তু এই যান্ত্রিক, বস্তুবাদী জীবনে সেই বােধ ও নৈতিকতার বড়ই অভাব। তাই পথ চলতে চলতে পথেই হারিয়ে যায় জীবন। যে জীবন মহার্ঘ তাকে এত অবহেলা করা হয় পথের মধ্যেই।

ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এই অভিযান পথ নিরাপত্তাকে ও দুর্ঘটনার প্রকৃতিকে কমিয়ে দিতে পেরেছে। 

উদ্দেশ্য :

অতি সম্প্রতি আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সর্বত্র এই স্লোগান বাস্তবায়িত করার জন্য প্রচার করেছেন—“Safe drive save life’।

পথ নিরাপত্তা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মানুষদের অবহিত করতে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাজে লাগিয়ে যে কর্মসূচি ২০১৬ সালে গ্রহণ করেছেন, তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। পথ নিরাপত্তা আমাদের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কেননা এই পথের ধারেই রয়েছে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, বাজার, অফিস আদালত এবং আরাে কত কি। এমনকি ঐসব প্রতিষ্ঠানে পৌঁছতে এই পথকেই মাধ্যম করতে হয় প্রতিদিনের জীবন ধারণের জন্য ও জীবিকার জন্য।

স্বরূপ :

তাই যথাযথভাবে গাড়ি, মােটরবাইক প্রভৃতি চালানাে পথ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্ব- পূর্ণ। কারণ বহু মানুষ এই অসাবধানতার কারণে পথেই জীবন হারায়।

তাই যারা গাড়ি চালান তারা যদি কোনরকম ঝুঁকি না নিয়ে যত্নের সঙ্গে যথাযথভাবে গাড়ি চালান তাহলে অনেক জীবনহানি থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

গাড়িচালকদের মানসিকভাবে তাদের স্বভাবধর্মের পরিবর্তন সাধনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী এই Safe drive save life নামক কর্মসূচিকে রাজ্যে প্রচারের ব্যবস্থা করেছেন।

এই কর্মসূচিকে বাস্তবায়িত করতে সুশীল সমাজ, পুলিশ, গাড়ি চালক, স্বাস্থ্য, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে যুক্ত করা হয়েছে। সমষ্টিগতভাবে মিলিত হয়ে এরা সবাই যদি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রচার করে যায়, তাহলে মানুষ অনেকটা সচেতন হতে পারবে বলেই মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী।

প্রকৃতি :

সাম্প্রতিক কালে দেখা যাচ্ছে শহর, শহরতলি কিম্বা গ্রামে মােটরবাইক, টোটো, অটো প্রভৃতির একাধিপত্য এবং তাদের বেপরােয়া গাড়ি চালানাে বিভিন্ন রকমের সমস্যার সঙ্গে প্রাণহানি পর্যন্ত ডেকে আনছে।

তারপর বেপরােয়া গাড়ি চালানাে, বাসের সঙ্গে রেষারেষি, সিগন্যাল ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া, লাইন ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া প্রভৃতি কারণে বহু প্রাণহানি ও গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

হেলমেটহীন মােটরবাইক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আরােহীরা প্রাণ হারাচ্ছে কিংবা দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে হাত-পা হারাচ্ছে। আবার এক ধরনের মােটরবাইক আরােহী রাস্তায় এঁকেবেঁকে দ্রুতগতিতে যেতে গিয়ে নিজের এবং অপরের বিপদ ডেকে আনছে।

প্রতিকার :

সে কারণে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সারা রাজ্যে পথ নিরাপত্তার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করার জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করে অনেকটা সচেতনতা বাড়াতে পেরেছেন। মানুষকে বুঝতে হবে জীবনে ঝুঁকি নেওয়া মানেই সর্বনাশ।

অথচ সামান্য ধৈর্য ধরলে পথের নিয়ম মেনে পথ চললে দুর্ঘটনা থেকে বাঁচা যায়। নিয়ম মেনে পথ চললে সেই নিয়মই যে জীবনকে রক্ষা করতে পারে—এ কথা বুঝতে হবে গাড়ির চালকদের।

বর্তমান এই যান্ত্রিক জীবনে মানুষের সহনশীলতার যথেষ্ট অভাব, অভাব ধৈর্যের। অন্যদিকে সামনের লােককে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে, কিন্ন বীরত্ব দেখাতে হবে—এ কারণেও চালকরা দুর্ঘটনা ঘটিয়ে থাকে।

তাই অপরকে সম্মান জানানাে, ধৈর্য ধরা, সহনশীলতাকে বাড়ানাে, পথের নিয়ম মেনে চলা প্রভৃতি মান্য করলে পথ নিরাপত্তা বাড়বে ও দুর্ঘটনা থেকে অনেকাংশে রেহাই পাওয়া যাবে।

উপসংহার :

আগে প্রতি বছর বিশেষ কিছু জায়গায় পথ নিরাপত্তাসপ্তাহ পালিত হত। এতে কাজের কাজ প্রায় কিছুই হত না। কিন্তু এই স্লোগান ও রাজ্যের সর্বত্র তা বাস্তবায়িত করার জন্য বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজে লাগানাের জন্য কিছুটা হলেও যে মানুষের মধ্যে এই বিষয়টি সচেতনতা বাড়িয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই। ইতিমধ্যে এই বিষয়টি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে ও পথমৃত্যুর ঘটনা অনেক কমেছে।



error: Content is protected !!