শহরের অসুখ হাঁ করে কেবল সবুজ খায়’ – উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করাে।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (কমবেশি ১৫০টি শব্দে): মান-৫

শহরের অসুখ হাঁ করে কেবল সবুজ খায়’ – উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করাে।

   উ: আমি দেখি’ কবিতায় কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় গাছের সঙ্গে মানুষের অমলিন ও আত্মিক সম্পর্কের দিকটিকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সুস্থ ও স্বাভামানুষের বিক জীবনযাপনের ক্ষেত্রে গাছের ভূমিকা অপরিসীম।

কিন্তু নগর সভ্যতার বিকাশের জন্য নাগরিক আগ্রাসনে ধীরে ধীরে গ্রাস করছে প্রকৃতিকে। শহরে নির্বিচারে চলছে সবুজের ধ্বংসলীলা শহর বলতে কবি এখানে নগর কেন্দ্রিক যান্ত্রিক সভ্যতাকেই বুঝিয়েছেন।

সেই সভ্যতার কারিগররা করছে প্রকৃতি নিধন। এই আগ্রাসনী মনােভাবকে কবি বলেছেন “শহরের অসুখ। নগরায়নের সর্বগ্রাসী বিস্তারে আজ সবুজ বিপন্ন। তার থেকে বাঁচতে গাছের প্রয়ােজন।

তাই কবি প্রকৃতিকে শহরের মধ্যে নতুন করে স্থাপন করতে চেয়েছেন। জঙ্গলে বহুদিন না যাওয়ার আক্ষেপ থেকে কবি বলেন, “গাছগুলাে তুলে আনাে, বাগানে বসাও’ – ‘শহরের অসুখ থেকে কবি বাচতে চান।

কংক্রিটের জঙ্গলে থাকতে থাকতে তিনি হাপিয়ে উঠেছেন। নাগরিক কৃত্রিমতায় বেড়ে চলে ক্লান্তি, অবসাদ ও সবুজের হাহাকার। নগরােন্নয়নের বিকাশ ও অগ্রগতিতে শহরের সুখ হাঁ করে গিলতে থাকে সবুজকে। শহরে সবুজের অনটন ঘটে। কবির বিষাদ মন তাই সবুজ চায়।


  • Posts not found
close