মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা টীকা লেখাে | বৈশিষ্ট্য ও পর্যালােচনা | মাধ্যমিক

 ষষ্ঠ অধ্যায় 

বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিকও বামপন্থী আন্দোলন : বৈশিষ্ট্য ও পর্যালােচনা

বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর: প্রশ্নমান 8

টীকা লেখাে : মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা।

উত্তর: ভারতে কমিউনিস্ট দমনার্থে ব্রিটিশ সরকার যেসব প্রয়াস নিয়েছিল, ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা ছিল সেগুলির মধ্যে অন্যতম।

মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা :

পটভূমি: ভারতে কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে শ্রমিক আন্দোলনের বিপুল অগ্রগতি ব্রিটিশ সরকারকে শঙ্কিত করে তােলে। শ্রমিকদের থেকে কমিউনিস্টদের আলাদা করা এবং তাদের দমন করার জন্য সরকার জননিরাপত্তা বিল’ ও ‘শিল্প বিরােধ বিল’ নামে দুটি দমনমূলক আইন পাশ করে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩৩ জন কমিউনিস্ট নেতাকে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯) রুজু করা হয়।

অভিযুক্ত : মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে উল্লেখযােগ্য ছিলেন মুজাফফর আহমেদ, এস. এ. ডাঙ্গে, পি. সি. যযাশী, মিরাজকার, নলিনী গুপ্ত প্রমুখ ভারতীয় কমিউনিস্ট নেতা। অন্যদিকে, ফিলিপ স্ক্র্যাট ও বেঞ্জামিন ব্রাডলি নামে দুজন ব্রিটিশ কমিউনিস্ট নেতাকেও এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার রায় : দীর্ঘ সাড়ে চার বছর ধরে (১৯২৯-৩৩) বিচার প্রক্রিয়া চলার পর শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ অভিযুক্ত দীর্ঘমেয়াদিকারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ঘােষিত হয়।

প্রতিক্রিয়া : এই মামলা হ্যারল্ড ল্যাস্কি, আইনস্টাইন, এইচ. জি. ওয়েলস প্রমুখ মনীষীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দেশ-বিদেশে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে সমালােচনার ঝড় ওঠে। পণ্ডিত নেহরু একে ‘জুডিসিয়াল স্ক্যানডেল’ বলে সমালােচনা করেন।

মন্তব্য: মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা ভারতীয় কমিউনিস্টদের সাময়িক দমিত করলেও তাদের অঙ্কুরে বিনাশ করতে পারেনি। কমিউনিস্টরা অচিরেই কংগ্রেস সমাজতন্ত্রীদলের মধ্যে থেকে শ্রমিক-কৃষকদের নিয়ে গণসংগ্রাম গড়ে তুলতে পূর্ণ উদ্যমে ঝাপিয়ে পড়েন।


Madhyamik History Notes

Madhyamik Suggestion

Madhyamik Result & Routine

close