ভারত ছাড়াে আন্দোলনে শ্রমিকদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করাে | মাধ্যমিক |

 ষষ্ঠ অধ্যায় 

বিশ শতকের ভারতে কৃষক, শ্রমিকও বামপন্থী আন্দোলন : বৈশিষ্ট্য ও পর্যালােচনা

বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর: (প্রশ্নমান ৮)

ভারত ছাড়াে আন্দোলনে শ্রমিকদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করাে। ওয়ার্কার্স অ্যান্ড গেজেন্টস্ পার্টি সম্পর্কে একটি টীকা লেখো। ৫ +৩ ]

উত্তর: প্ৰথম অংশ

শ্রমিক শ্রেণির সার্বিক তথা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ভারতছাড়াে আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

ভারতচ্ছাড়াে আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণির অংশগ্রহণ :

বােম্বাই: আন্দোলনের সূচনার দিন থেকে পরবর্তী এক সপ্তাহ পর্যন্ত অর্থাৎ ১৯৪২-এর ৯ থেকে ১৪ আগস্ট বােম্বাইতে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে গণবিক্ষোভ ঘটে। শিল্পাঞ্চল ও বন্দর এলাকায় ধর্মঘট পালিত হয়। সরকারি প্রশাসন সাময়িক লােপ পায়। পরিস্থিতির মােকাবিলায় সরকার পুলিশ ও সেনা তলব করে।

গুজরাট : মজদুর মহাজন সঙ্ঘের পরিচালনায় আমেদাবাদে বস্ত্রশিল্পের প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার শ্রমিক ধর্মঘটে সামিল হয়। তারা আজাদ সরকার’ নামে একটি সমান্তরাল প্রশাসন গড়ে তােলে।

বিহার : এখানে টাটা লৌহ ইস্পাত কারখানার শ্রমিকরা ১০-১৩ আগস্ট টানা চারদিন ধর্মঘট করে। তারা দাবি জানায় যে জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি পালন করবে। ১২ আগস্ট ডালমিয়া নগরে শ্রমিক ধর্মঘট সংঘটিত হয়।

মহীশূর : বেঙ্গালুরু শিল্পাঞ্চল ও বিভিন্ন খনি অঞ্চলে শ্রমিক ধর্মঘট সংঘটিত হয়। পরিস্থিতি মােকাবিলায় পুলিশ গুলি চালায়।

অন্যান্য রাজ্য : এগুলি ছাড়াও দিল্লি, লক্ষ্ণৌ, কানপুর, নাগপুর, মাদ্রাজ, কলকাতা প্রভৃতি স্থানেও স্বতঃস্ফূর্ত শ্রমিক ধর্মঘট সংঘটিত হয়।

ভারতে শ্রমিক আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকেই কমিউনিস্টরা এই আন্দোলনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত থাকলেও ভারতছাড়াে আন্দোলন পর্বে শ্রমিকশ্রেণি বামপন্থীদের সাহায্য বা সহযােগিতা কোনােটাই পায়নি। তৎসত্ত্বেও ভারতছাড়াে আন্দোলন পর্বে শ্রমিক শ্রেণির গৌরববাজ্জ্বল ভূমিকা নিঃসন্দেহে স্মরণীয়।

দ্বিতীয় অংশ

গান্ধিজি কর্তৃক অসহযােগ আন্দোলন অকস্মাৎ প্রত্যাহারের পর সমাজতান্ত্রিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ কংগ্রেসের কিছু যুব নেতা শ্রমিক-কৃষক আন্দোলনকে সংগঠিত করতে প্রয়াসী হন। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে আবির্ভূত হয় ওয়ার্কাস অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি।

ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস্ পার্টি

পটভূমি : ভারতীয় কমিউনিস্টদের পক্ষে খােলাখুলিভাবে কাজ করা অনেক ক্ষেত্রেই ছিল অসুবিধাজনক। তাই শ্রমিক-কৃষকের স্বার্থে জাতীয় কংগ্রেসের অভ্যন্তরেই এই দল গড়ে ওঠে। জাতীয় কংগ্রেসের এই আন্দোলনের প্রতি পরােক্ষ সহানুভূতি ছিল।

প্রতিষ্ঠা: ১৯২৫ সালে কলকাতায় ‘লেবার স্বরাজ পার্টি অফ দি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস’ নামে এই রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠে।

নাম পরিবর্তন: ১৯২৮ সালে কলকাতায় এই দলের সর্বভারতীয় সম্মেলনে এর নতুন নামকরণ হয়, ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি। দলের সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন আর, এস. নিম্বকার।

নেতৃবৃন্দ: এই দলের নেতৃত্বের অধিকাংশই ছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের কাজকর্মের প্রতি বীতশ্রদ্ধ। এদের মধ্যে কুতুবুদ্দিন আহম্মেদ, কাজী নজরুল ইসলাম, গােপেন চক্রবর্তী, নলিনী গুপ্ত প্রমুখ ছিলেন বিশেষ উল্লেখযােগ্য।

উদ্দেশ্য: ‘ওয়ার্কার্সঅ্যান্ড পেজেন্টস্পার্টি’গড়েউঠেছিলশ্রমিকদের কাজের সময়সীমাহ্রাস, সর্বনিম্ন মজুরির হার নির্ধারণ, জমিদারি প্রথার অবসান ঘটানাে, শ্রমিক শ্রেণির আর্থ-সামাজিক উন্নতি সাধন, তাদের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার জাগরণ ঘটানাে প্রভৃতির উদ্দেশ্যে। কাজী নজরুল ইসলাম, মুজাফফর আহমেদ প্রমুখের উদ্যোগে লাঙল’ও ‘গণবাণী’ পত্রিকাকে মুখপত্র করে প্রাথমিকভাবে কংগ্রেসের মধ্যে থেকে ও পরবর্তীতে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে শ্রমিক-কৃষক শ্রেণির স্বার্থরক্ষা করতে চেয়েছিল এই প্রতিষ্ঠান।

প্রসার :প্রাথমিকভাবে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হলেও অচিরেই এই দলের সর্বভারতীয় প্রকাশ ঘটে। বােম্বাই, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব প্রভৃতি স্থানে এর শাখা স্থাপিত হয় এবং শ্রমিক কৃষকদের স্বার্থে জোরদার আন্দোলন শুরু হয়।

মূল্যায়ন : জাতীয় আন্দোলনে জাতীয় কংগ্রেসের মূল ধারার পাশাপাশি ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস্ পার্টি’ দীর্ঘদিন একই সঙ্গে পথ হেঁটেছে বহুদূর। এদের প্রচেষ্টাতেই প্রাথমিকপর্বে সংঘবদ্ধ কৃষক-শ্রমিক আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল ভারতের বুকে।


Madhyamik History Notes

Madhyamik Suggestion

Madhyamik Result & Routine

close