বামাবােধিনী পত্রিকা কিভাবে নারীসমাজের মুখপত্রে পরিণত হয়েছিল?


‘বামাবােধিনী পত্রিকা কিভাবে নারীসমাজের মুখপত্রে পরিণত হয়েছিল?

উত্তর : ভারতীয় নারীমুক্তি আন্দোলন ও সাংবাদিকতার ইতিহাসে বামাবােধিনী’ এক স্মরণীয় নাম।

প্রকাশ : ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে উমেশচন্দ্র দত্তের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। মাসিক পত্র ‘বামাবােধিনী।

উদ্দেশ্য : ‘বামাবােধিনী’-র মূল উদ্দেশ্য ছিল—‘অন্তঃপুর মধ্যে বিদ্যালােক প্রবেশ করিয়ে’ বামা সমাজের বন্ধন মুক্তি তথা নারী শক্তির জাগরণ।

কর্মকাণ্ড : বামাবােধিনী’ তার প্রথম সংখ্যাতেই স্ত্রী শিক্ষার দাবি জোরালােভাবে উত্থাপন করে। সেই সঙ্গে বাল্যবিবাহ এবং বার্ধক্য বিবাহেরও বিরােধিতা করা হয়। সমকালীন ধর্ম, নীতি শিক্ষা, বিজ্ঞান, ঘরােয়া ঔষধপত্র, সন্তান প্রতিপালন, নারী শিক্ষার গুরুত্ব প্রভৃতি বিষয়েও দিনের পর দিন সমৃদ্ধ হতাে বামাবােধিনী’র পাতাগুলি। নারীর প্রতি বঞ্চনা, অপরাধ ও শােষণের বিরুদ্ধে জোরালাে প্রতিবাদ জানিয়েছিল বামাবােধিনী’। বামাবােধিনী’র প্রচ্ছদে লেখা থাকতাে এক আপ্ত বাণী—“কন্যাকেও পালন করিবেক এবং যত্নের সহিত শিক্ষা দিবে।”

গুরুত্ব : বামাবােধিনী’-র প্রধান গুরুত্ব ছিল—এই পত্রিকা দীর্ঘদিন ধরে নারী জাতির চিন্তা-ভাবনাকে প্রভাবিত করে নারী-জনমত গঠনের ব্যবস্থা করে দেয়। সেই সঙ্গে মেয়েদের লেখা গল্প, কবিতা, তাদের কৃতিত্ব, সাফল্য এমনকি রাজনৈতিক আন্দোলনে তাদের

অংশগ্রহণের খবর নিয়মিত প্রকাশ করে নারী সমাজের মুখপত্রে পরিণত হয় বামাবােধিনী’।

মন্তব্য : নারী জাগরণের ইতিহাসে বামাবােধিনী পত্রিকার গৌরবােজ্জ্বল ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। অবলা বামা সমাজকে জ্ঞানালােকে প্রবেশের পথ দেখিয়ে বামাবােধিনী’ যথার্থই ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে।



error: Content is protected !!