গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’য় উনিশ শতকের বাংলার গ্রামীণ সমাজের কীরূপ ছবি ফুটে উঠেছে?

“গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’য় উনিশ শতকের বাংলার গ্রামীণ সমাজের কীরূপ ছবি ফুটে উঠেছে?

উত্তর : বঙ্গীয় জাতীয় জাগরণ ও গ্রামীণ সাংবাদিকতার ইতিহাসে ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ এক উল্লেখযােগ্য নাম।

প্রকাশ : ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি গ্রাম থেকে প্রকাশিত হয় মাসিক পত্রিকা গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’।

নামকরণ : গ্রাম ও গ্রামবাসীদের অবস্থা তুলে ধরার জন্যই এই পত্রিকার এইরূপ নামকরণ।

সম্পাদনা : এর সম্পাদনার দায়িত্ব নেন কুমারখালির পাঠশালার পণ্ডিত হরিনাথ মজুমদার, যিনি ‘কাঙাল হরিনাথ’ নামেই সমধিক পরিচিত।

 গ্রামীণ সাংবাদিকতা : গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ যথার্থ অর্থেই সমকালীন বাংলার গ্রাম সমাজের দর্পণ। জাতীয় জাগরণের ওই দিনগুলিতে হরিনাথ বেছে নিয়েছিলেন শহর কলকাতা নয়, দরিদ্র ও সমস্যা-জর্জরিত গ্রাম-বাংলাকে। পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যা জুড়েই জমি, জমিদার, কৃষক, মহাজন, নীলকর এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলােচনা থাকতাে। জমিদারি নিপীড়ন, পুলিশের অসাধুতা, বিচারের নামে অবিচার, সাধারণ মানুষের অসহায়তার খবর দিনের পর দিন তিনি ছেপেছেন অসীম সাহসে। সামাজিক অত্যাচার ও নিত্য-নিপীড়ন থেকে প্রজাদের মুক্তির জন্য হরিনাথ নিজে সংগ্রামীর ভূমিকা নিয়েছেন। ফলত জমিদারের প্রলােভন ও আক্রমণের লক্ষ্য হয়েছেন বারংবার। সর্বস্ব খুইয়েও প্রজাস্বার্থের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।

মন্তব্য : নিরপেক্ষতা ও স্বৈরাচার বিরােধিতার এক মূর্ত প্রতীক গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’। প্রলােভন ও ভীতির উর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের যে দৃষ্টান্ত গ্রামবার্তা স্থাপন করেছিল, বর্তমানে তা বড়ই দুর্লভ।


close