আমার জীবনের লক্ষ্য রচনা বা তোমার জীবনের লক্ষ্য রচনা, জীবনের লক্ষ্য রচনা

আমার জীবনের লক্ষ্য (Amar jiboner lokkho Rachana)

প্রশ্ন: তােমার জীবনের লক্ষ্য?

উত্তর: আমার জীবনের লক্ষ্য

প্রাথন : ছােটোবেলায় মায়ের পাশে বসে দাদাকে সুর করে কবিতা পড়তে দেখতাম “আমরা কেউ মাষ্টার হতে চেয়েছিলাম, কেউ ডাক্তার, কেউ উকিল।/অমলকান্তি সে-সব কিছু হতে চায়নি।/সে রােদুর হতে চেয়েছিল।”। একবার কৌতুহলী হয়ে মাকে জিজ্ঞাসা করি—“মা রােদুরে হওয়া কী? আমি বড় হয়ে রােদুর হব”। মা প্রথমে ভুরু কুঁচকলেও, পরে হেসে বলেছিল—“ধুর পাগল, কেউ রােদুর হয় নাকি? তুই তাে বড় হয়ে ডাক্তার হবি”।

আমার জীবনের লক্ষ্য: হাইস্কুলে ওঠার পর বুঝি রােদুর হওয়া সম্ভব নয়। তাহলে আমি বড় হয়ে কী হব? রচনার বইয়ে দেখলাম লেখা আছে—মহাসমুদ্রের নাবিকেরা যেমন ধ্রুবতারাকে লক্ষ্য রেখে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলে তেমনই আমাদের জীবনেও লক্ষ্য থাকা প্রয়ােজন। মন আর মস্তিষ্কের অনেক বােঝাপড়া করার পর আমি সিদ্ধান্ত নিই—আমি মাঝি হতে চাই। প্রেমের ফক্ষুধারার বুকে নৌকা নিয়ে পাড়ি দিতে চাই অচিনপুরে। আগন্তুককে পৌছে দিতে চাই তাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।

লক্ষ্য নির্বাচনের ইতিকথা : অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় জন্মদিনে পাওয়ারনানা উপহারের মধ্যে রঙিন কাগজে মােড়া একটা বইও পেয়েছিলাম-“পদ্মানদীর মাঝি”। প্রতি রােববার কোচিং থেকে ফেরার পর বইটা পড়তে পড়তে নিজেকে পদ্মানদীর মাঝির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে ফেলতাম। আমি নিজেই যেন হয়ে উঠতাম কুবের মাঝি। বইয়ের পাতায় ছাপা অক্ষরগুলাে যেন কপিলার কণ্ঠস্বরকে আমার কানের কাছে বার বার বেজে উঠত–“আমারে নিবা মাঝিলগে”?

লক্ষ্য নির্বাচনের কারণ : আমার মত শেষ বেঞ্চের ছাত্র কাছে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ক্ষমতা নেই।ওইসব দাসত্বপূর্ণ ছকে বাঁধা জীবনের প্রতি রুচিও নেই। তাছাড়া অন্য কোনাে অসৎ পথ অবলম্বন করে অর্থ-সম্পদের ইমারত গড়ে তুলতেও চাইনা। আমি চাই—

  •  সৎ ভাবে মাথা উঁচু করে তরী ভরা পণ্য নিয়ে পাড়ি দিতে দূর সিন্ধুপারে”।
  •  যাত্রীদেরকে তার সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দিতে।
  •  ভাটিয়ালির সুর ধরে নদীর বুকে ভেসে বেড়াতে।
  • দূর দেশ থেকে ঘরের ছেলেকে ঘরে ফিরিয়ে আনতেকিংবা জীবিকার তাগিদেভিনদেশের
    উদ্দেশ্যে পাড়ি দেওয়া কোন এক সন্তানকে পৌছে দিতে চাই তার কর্মক্ষেত্রের অভিমুখে।
  • আমিও চাইমা অন্নপূর্ণার কাছে প্রার্থনা করতে, “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে”।
    গন্তব্যে পৌছানাের পর যাত্রীরা যখন হাসিমুখে ভাড়া মেটাবে, তাদের সেই তৃপ্তিটুকুকে
    অপলক দৃষ্টিতে উপভােগ করতে চাই।

লক্ষ্য পূরণের বাধা : আমার এই লক্ষ্য পূরণের পথে প্রতিবন্ধকতা অনেক। অধিকাংশ মানুষই আমার মনের কথা শুনে হাসে, ব্যঙ্গ করে বিদ্রুপ করে। যদিও এতে আমি এতটুকুও কুণ্ঠিত হই না। বরং সমস্ত বিদ্রুপই যেন আমার কাছে অনুপ্রেরণার ফুল হয়েছ আমার কাছে ঝরে পড়ে। তখন “নদীপ্রবাহ ভাসমান পথিকের উদাসের হৃদয়”নিজের সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করবার জন্য যেন আরাে উদগ্রীব হয়ে ওঠে।

শেষকথা :
“মা যদি হও রাজি
বড় হয়ে আমি হব
খেয়া ঘাটের মাঝি।”

মহাসমুদ্র পাড়ি দেওয়া নাবিকেরা ধ্রুবতারায় লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে গন্তব্যের পথে এগিয়ে চলে। আমিও চলেছি। তা বলে, আমার যে সব বন্ধুরা ডাক্তার উকিল কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখে তাদের সঙ্গে আমার কোনাে বিরােধ নেই। বরং আমি তাে তাদের আমার নৌকোয় চাপিয়েই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছে দিতে চাই। হতে চাই সবার স্বপ্ন পূরণের ফেরিওয়ালা— “ধরাে হাল শক্ত হাতে, ভয় কী নদীর কাছে?



ছাত্র ছাত্রীদের বক্তব্য

আমার জীবনের লক্ষ্য রচনা class 9
আমার জীবনের লক্ষ্য বিজ্ঞানী হওয়া
আমার জীবনের লক্ষ্য চিঠি
জীবনের লক্ষ্য নিয়ে উক্তি
আমার জীবনের লক্ষ্য ডাক্তার হওয়া
জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
তোমার জীবনের আদর্শ মানুষ রচনা
কেন আমি ডাক্তার হতে চাই
আমার জীবনের লক্ষ্য ইঞ্জিনিয়ার
আমার জীবনের লক্ষ্য বিজ্ঞানী হওয়া

close